। হাবেলী ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২৭ এপ্রিল ।
ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৪ আসনে জয়ী হয় বিজেপি। বাকি আসনগুলোতে খুব ন্যাক্কারজনক ভাবে পরাজিত হয় বি জে পি প্রার্থীগন।নির্বাচনে পরাজিত হবার পর সংবাদ মিডিয়া সহ সর্বত্রই বি জে পি কে তীব্র সমালোচনা মুখে পড়তে হচ্ছে। এই নির্বাচনের প্রধান মুখ ছিলেন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার অধ্যাপক মানিক সাহা। উনাকে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই সমালোচনা হাত থেকে বাঁচতে এবং কেন নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে। সেই কারণ খুঁজতে আজো বি জে পি রাজ্য কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্টিত হয়। সেই সব সভায় রাজ্যসভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য সহ সকলে উপস্থিত ছিলেন। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কোথায় রয়েছে।তা খোঁজে বের করতে । তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সকলের বিশ্বাস।
ভারতীয় জনতা পার্টি সর্বভারতীয় দল। রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে মাত্র আট বছর আগে। রাজ্যের ক্ষমতায় আসার আগে এই দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল।আজো সেই দূর্বলতা রয়েছে।২০১৮ সাল সমতল এলাকাসহ পাহাড়ে বি জে পি নিজস্ব ভিত ছিল না। সেই সময় পাহাড়ে আই পি এফ টি হাত ধরতে হয়েছে। সমতলে কংগ্রেস ও তৃনমুল কংগ্রেসের দল বদলুদের হাত ধরে বি জে পিকে রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে হয়েছে।
একটি জাতীয় দল বি জে পি।সমতল সহ পাহাড়ে বি জে পি নিজস্ব ভোট কত শতাংশ রয়েছে।তা সকলের জানা রয়েছে।ভেনোজলের ধাক্কায় বি জে পি আজো রাজ্যে সরকারে রয়েছে।
২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে হারতে হারতে কোন ভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসে বি জে পি। দলের নিজস্ব ভোট থেকে থাকে। তাহলে দলের এত খারাপ ফল বিধানসভা নির্বাচনে করার কথা নয়।
পাহাড়ে বি জে পি সাংগঠনিক দুর্বলতা স্বর্তে ও
২০২১ সালে এ ডি সি নির্বাচনে ১০ টিতে জয় লাভ করেছিল । কিন্তু এই বার ফল ভরাডুবির কারণ কি ? গত এ ডি সি নির্বাচনে সি পি আই এম এবং আই এন পি টি একাংশ ভোট পাহাড়ে বি জে পিতে চলে যায়।
২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের ভোট বিশাল অংশ পুনরায় বামফ্রন্ট দিকে চলে যায়। সেই কারণে বি জে পি ভোট কমে যায়। এছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট জোট গঠন করে ছিল। সেই প্রভাব ও বি জে পি বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীকে প্রভাবিত করেছিল।
এই নির্বাচনে বি জে পি দলের মন্ত্রী, বিধায়ক এবং নেতাদের বিশাল অংশের কর্মি দলের সাথে প্রতারণা করছে বলে বিভিন্ন এলাকা সূত্রে জানা যায়।যার প্রভাব ভোটে পড়েছে।
তারপর মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী রোমান লিপি বিতর্ক এবং তিপ্রা মথা দলের সুপ্রিমো কে সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষনের প্রভাব ভোটে উপর পড়েছে।
তার পর ও বি জে পি রাজ্যে পাহাড়ের সর্বত্রই দলের প্রভাব পৌঁছে দিতে পেরেছে। সেইটাই বড় সাফল্য। সাময়িক ক্ষতি বি জে পি কে আগামী দিনে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবে বলে অনেকের অভিমত।
কিন্তু আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বি জে পি পাহাড়ের যেকোনো আঞ্চলিক দলের সাথে নির্বাচনে সমঝোতা করেন। তাহলে পুনরায় দল নিজস্ব ভিত নষ্ট করবে। পাহাড়ের একাংশ ভোটার আঞ্চলিক দলের প্রতি বিশ্বাস নেই। কিন্তু জাতীয় দল না থাকায় তাদের কে আঞ্চলিক দলের সাথে গিয়ে ভোট দিতে হয়। যদি বি জে পি আগামী দিনে এককভাবে পাহাড়ের নির্বাচনে লড়াই করেন। তাতে করে কর্মি সমর্থন গন ঘুরে দাঁড়াবে।
এছাড়া আগামী দিনে আই পি এফ টি মুছে যাবে।তিপ্রা মথা দল এ ডি সি নির্বাচনে ফলাফল কারণে আগামী আরও পাঁচ বছর দলকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। তারপর এই আঞ্চলিক দল কে টিকিয়ে রাখা খুবই কষ্টকর হবে।
১৯৮০ সালের পর কংগ্রেস জাতীয় দল হয়ে ও একক ভাবে পাহাড়ে সংগঠন করতে পারে নি। এই বার কংগ্রেস এককভাবে পাহাড়ে লড়াই করেছে। কংগ্রেস তৎকালীন উপজাতি যুব সমিতি তথা আই এন পি টি কে পুনঃজীবিত করে পুনরায় জোট বেঁধে পাহাড়ে চেষ্টা করেছিল।এই নিয়ে কংগ্রেস এবং পাহাড়ের যুব সমিতি,আই এন পি টি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় কংগ্রেস একা লড়তে বাধ্য হয়েছে।
সি পি আই এম পাহাড়ের সংগঠন গনমুক্তি পরিষদ। এই জি এম পি হাত ধরে সি পি আই এম পাহাড়ের সংগঠন সুদৃঢ় করে ছিল।১৯৪৭-৪৮ সালের জি এম পি নেতা নেতৃগন অনেকেই নেই। অনেকে আবার আগরতলায় বসবাস করছে। নতুন নেতাদের তুলে আনে নি জি এম পি।আর সি পি আই এমের নিয়ন্ত্রণে থাকতে থাকতে জি এম পি ও কোন ঠাসা হয়ে পড়েছে।
এই এ ডি সি নির্বাচনে প্রথম দিকে সি পি আই এম সাংগঠনিক ভাবে বি জে পি এবং তিপ্রা মথা দলের মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে ভেবে অগ্ৰসর হয়েছিল। কিন্তু পরে তিপ্রা মথা এবং বি জে পি পৃথক পৃথক ভাবে নির্বাচনে লড়াই করার সীদ্ধান্ত নেয়াতে অনেক জি এম পি নেতা কর্মীরা পিছিয়ে যান।মথার সাথে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গিয়ে জি এম পি সুবিধা করতে পারবে না।যার কারণে জি এম পি সর্মথন কারীগন মথাকে সমর্থন করছে।
আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জি এম পি পুনরায় ঘুরে তার নিজ ঘরে যেতে চেষ্টা করবে। যদি মথা আজকের প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম হয়। তাহলে পাহাড়ের ভেতর এ সি পি আই এম এবং বি জে পি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
তা নির্ভর করবে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন এ । যদি ইতিমধ্যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়। তাহলে বি জে পি দেখানো পথে তিপ্রা মথা দল সব ভিলেজ কমিটি গুলো দলে নিবেই। এই ক্ষেত্রে সফল হতে পারে মথা। তাহলে পাহাড়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনো দলকে ঘুরে দাড়াতেই দিবে না।
কিন্তু এই বার মুখ্যমন্ত্রী দলের কর্মী সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করতে সক্ষম হবেন। নির্বাচনী সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেয়ায় অনেক কর্ম সমর্থক আগ্ৰহ নিয়ে সংগঠনের কাজ করবে।এতবছর যাবৎ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়ে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সব পরিবারের খোঁজ খবর নেয়ার প্রয়োজন মনে করতেন না। আর্থিক সহায়তা ও দূরের কথা। তাই এখন থেকে বি জে পি পাহাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে থাকে তাহলে আগামী বীধানসভা নির্বাচনে দলের শক্তি দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

