ত্রিপুরায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হ্রাস পেয়েছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার
ত্রিপুরায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হ্রাস পেয়েছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার
আগরতলা, ১০ অক্টোবর: পরিবহন ও পুলিশ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগ এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার ফলে ত্রিপুরায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি রোধে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
১০ অক্টোবর আগরতলার এডিনগর পুলিশ গ্রাউন্ডে সড়ক নিরাপত্তা তহবিলের আওতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মোট ১ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রোড ডিভাইডার, হেলমেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন কার্যকর করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় দুর্ঘটনায় আহতদের সাহায্যকারী ব্যক্তিদের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনা (CMJOY)-এর মাধ্যমে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নত সরঞ্জাম এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ ও জননিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে। সড়ক নিরাপত্তা বিধির মূল লক্ষ্য শুধু যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবন সুরক্ষিত রাখা। তাই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, নিয়মিত নজরদারি এবং আইন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, নগরোন্নয়ন দপ্তরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে এবং পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহানির্দেশক জি. এস. রাও-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা হ্রাসের দাবি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: SHABD