। হাবেলী ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২০ জুন । হাবেলী নিজস্ব প্রতিবেদন ।
ধান চাষে রেগা শ্রমিক প্রদানের দাবি জানিয়েছেন নাথ যোগী ফোরাম রাজ্য সভাপতি হরিহর দেবনাথ।রেগা শ্রমিক অন্তর্ভুক্ত করা হলে ধানচাষী উপকৃত হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। রেগা শ্রমিকদের কৃষি কাজের সাথে যুক্ত করা হয়। ধানের চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কার এবং ধান কাটা,ঝাড়াই বাছাই কাজ করতে দেয়া যেতে পারে। জমির মালিক কে নিজের জমিতে রেগা শ্রমিকদের মতো মজুরি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরো বলেন রাবার বাগান তৈরি করে দেয়ার সময় জমির মালিক কে মজুরি দেয়া হয়।রেগার শ্রমিক দিয়ে রাবার বাগান পরিষ্কার,চারা রোপণ এবং পরিচর্চা কাজ করে দেয় যেতে পারে। তাহলে ধান চাষে রেগা শ্রমিকদের দিতে কোন সমস্যা থাকতে পারে না।
তিনি জানিয়েছেন রাজ্যে জনসংখ্যা বেশি ভাগ নাথ যোগী সম্প্রদায়ের জনগন। এরা চাষের কাজে বেশি যুক্ত রয়েছে।সকলেই গরিব। চাষবাস করে এদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। এখন চাষের কাজে জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। অনেকে চাষের জমিতে জল কাদামাটিতে কাজ করতে রাজি হয় না।যার কারণে জমিতে চাষাবাদ করার সময়ে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। একজন শ্রমিক কে দৈনিক ৭ শত টাকা মজুরি দিতে হয় । সাথে দুপুরে একবার ভাত খেতে দিতে হবে। সাথে দুই বার চা টিপিন। তাই নয় শুধু পরিশোধিত ফ্রিজে ঠাণ্ডা জল দিতে হবে। কাজের সময় মাত্র আট ঘণ্টা।তার বিশ্রাম গড়ে দুই ঘণ্টা চলে যাবে। আজকে জমিতে কাজ করতে আসবে। কিন্তু আগামী দিনে বাকি কাজ করতে হবে। সেই কাজের জন্য পরদিন পুনরায় আসবে তার নিরাপত্তা নেই। জমির মালিক থাকেন এক অনিশ্চয়তা মধ্যে। এককানি চাষ করতে এখন প্রায় ১৪- ১৫ হাজার টাকা খরচ পড়ে। এককানি ট্রাক্টর লাগিয়ে চাষ করতে প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ পড়ে। দুই বার জমিতে ট্রাক্টর লাগিয়ে চাষ করতে হবে।
জমির জন্য প্রয়োজনীয় সার সরকারি গ্ৰাম সেবক কেন্দ্র থেকে পাবে না। অপরদিকে চাষের মৌসুম এ সার ও পাওয়া যাবে। ইউরিয়া সার পেলে পাবে না সুপার ফসফেট সার ।সাথ সাথে রক ফসফেট,জিঙ্কসহ নানা রকম সার সরকারি কেন্দ্র থেকে পাবে না। চড়া দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হবে।
কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। সরকারি ভাবে সরবরাহ করা হয় না। খোলা বাজার থেকে চড়া দামে কিনতে হবে। তা-ও আবার নিম্নমানের কীটনাশক। একবারে জায়গায় দুই তিন বার স্প্রে করতে হবে।
এককানি জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে প্রায় ৮ জন শ্রমিক প্রয়োজন আজকে দিনে। জমিতে দুইবার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সেখানে ও গড়ে দুই বারের জন্য ১০-১২ জন শ্রমিক প্রয়োজন।ধান পাকার পর জমি থেকে কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হবে। এই জন্য কম করে ৭ জন শ্রমিক প্রয়োজন।ধান মাড়াই জাড়াই করতে চাই আরও শ্রমিক। যদি মেশিন এ ধান ঝাড়াই কথা তাহলে সামান্য কিছু শ্রমিক কম লাগে।
ধানের খড় আগের মতো দামে করা যায় না।
সবকিছু মিলিয়ে একজন চাষী এককানি জমিতে ধান চাষ করে যা আয় হয়। তাই দিয়ে সংসার পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
সরকার সময় মতো ধান চাষির কাছ থেকে কিনে না বলে অভিযোগ। আবার ধান কেনার পর সময় মতো ধানের টাকা ব্যাঙ্কে দেয়া হয় না বলে ও অভিযোগ রয়েছে।
এখন খোলা বাজারে আগের মত ধান বিক্রি করতে পারে না।ফলন তোলার পর ধান নিয়ে চাষী পড়েন মহা সমস্যায়। তাই ধান ঘরে তোলার সাথে সাথে চাষী সরকারের ঘরে পৌঁছে দিতে পারে। তাহলে চাষী উপকৃত হবে। নয়তো আগামী দিনে ধানের চাষ আরো কমে যাবে। কৃষি জমি ফাঁকা ফেলে রাখতে বাধ্য হবে চাষী।

