। হাবেলী ডিজিটাল ডেস্ক । আগরতলা । ৯ সেপ্টেম্বর ।
আজ ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। বিশ্বের প্রতিটি কোণে যখন একসাথে উচ্চারিত হচ্ছে সাক্ষরতার জয়গান, তখন নয়াদিল্লির ড. আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্রও সাক্ষী হলো এক স্মরণীয় মুহূর্তের। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান যেন হয়ে উঠল ত্রিপুরার সাফল্যের এক ঝলমলে আখ্যান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী। ভরা অডিটরিয়ামে তিনি যখন প্রতিপাদ্য ঘোষণা করলেন- “Promoting Literacy in the Digital Era through ULLAS”- তখনই যেন নতুন যুগের দরজা খুলে গেল, যেখানে প্রযুক্তি আর শিক্ষা মিলে সৃষ্টি করছে সম্ভাবনার অফুরান দিগন্ত।
অনুষ্ঠানের আসল আবেদন ছিল ‘থিমেটিক সেশন’। সেখানে ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব রাভাল এইচ. কুমার উপস্থাপন করলেন ত্রিপুরার পূর্ণ সাক্ষরতার যাত্রাপথের এক বর্ণময় কাহিনি। পাহাড়-সমতল পেরিয়ে, প্রান্তিক গ্রাম থেকে শহরের আলোয়- কেমন করে প্রত্যেক অসাক্ষর মানুষকে সাক্ষরতার আলোর বৃত্তে আনা হলো, সেই গল্পে মুগ্ধ হলেন সকলেই। হলঘর জুড়ে উঠল, প্রশংসার মৃদু গুঞ্জন, যা মুহূর্তেই রূপ নিল সম্মিলিত করতালিতে। মঞ্চে সেই মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মন এবং মিজোরামের শিক্ষামন্ত্রী ভানলালথলানা। তাঁদের কণ্ঠেও ভেসে এল পথ চলার কথা, সংগ্রামের কথা, আর সাফল্যের গল্প। এর মধ্যে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য যেন আলাদা দীপ্তি ছড়াল- দেশব্যাপী প্রশংসিত হলো রাজ্যের প্রচেষ্টা।
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকার জন্যও ত্রিপুরাকে আলাদা করে তুলে ধরা হলো। উপস্থিত সবাই স্বীকার করলেন- ত্রিপুরা আজ শুধু একটি পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য নয়, বরং সমগ্র দেশের কাছে এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত।আজকের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস তাই ত্রিপুরার জন্য শুধুই একটি দিন নয়, বরং এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যেখানে ছোট্ট একটি রাজ্য হয়ে উঠল সমগ্র জাতির আশা, প্রেরণা আর দৃঢ় সংকল্পের উৎস। বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে ।

