জগদীশ দেববর্মা মুখ্য নির্বাহী সদস্য হচ্ছেন

। হাবেলী ডিজিটাল ডেস্ক। আগরতলা। ২০ এপ্রিল ।

জগদীশ দেববর্মা মুখ্য নির্বাহি সদস্য পদে আসছেন ? ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিপ্রা মথা দল বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে পূনরায় ফিরে আসে। এ ডি সি গঠন হবার পর আর কোন দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আজ পর্যন্ত অর্জন করতে পারে নি। আগামী দিনে আর কোন দল পারবে কিনা তা সময়ে বলতে পারবে।পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মুখ্য নির্বাহী সদস্য পদে দল কাকে নির্বাচিত করেছেন সেই সম্পকে এখনো ঘোষণা করা হয় নি। ধারনা করা হচ্ছে আগামী দু একদিনের মধ্যে মুখ নির্বাহী সদস্য পদে নাম ঘোষণা করা হবে। সাথে অন্যান্য নির্বাহী সদস্যদের নাম‌ও ঘোষণা করা হবে।
জগদীশ দেববর্মা দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।এ ডি সিতে দীর্ঘ দশ বছর পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। যথেষ্ট সুনাম সাথে তিনি পরিষদের অধিবেশন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।শাসক বিরোধী দলের সকল সদস্য সদস্যাগন শ্রীদেববরমা সর্বদা খুশি। তিনি যেকোনো সমস্যা কে খুব শান্ত ভাবে মিটিয়ে নিতে পারেন।
তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করে আসছেন। প্রথম তিনি উপজাতি যুব সমিতি আঞ্চলিক দল করেছেন।১৯৯০ সালে উপজাতি যুব সমিতি দল থেকে এ ডি সিতে নির্বাচিত হন।প্রথম নির্বাচনে জয়লাভ করেন। সেই বার প্রথম তিনি চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। সেই সময়ে এ ডি সিতে একবার যুব সমিতি দল ভেঙে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়। তখন তিনি খুব দক্ষতার সাথে বিষয়টি মোকিবিলা করতে সক্ষম হন।।সেই সময়ে কংগ্রেস যুব ও সমিতি জোট ছিল। সেই সময়ে বহু তালবাহানার মধ্যে তিনি পাঁচ বছর সরকার এ ডি সিতে পরিচালনা করেছেন।
পরে উপজাতি যুব সমিতি দলের মধ্যে বহু ঘাত প্রতিঘাত চলতে থাকে। এই সময়ে মধ্যে যুব সমিতির সিনিয়র রাজনৈতিক নেতাদের অসময়ে চলে যায়। সেই দুঃসময়ে জগদীশ দের্ববমা দলের হাল ধরেন। দীর্ঘ দিন তিনি দলের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন।পরে আই এন পি টি দলের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে তিপ্রা মথা দলের সাথে জোট গঠন করে ২০২১ সালে পুনরায় এ ডি সিতে তিনি নির্বাচনে লড়াই করে জয়ী হন। মথা
দলের সুপ্রিমো জগদীশ দের্ববমা কে চেয়ারম্যান পদে আসীন করেন। সেই সময় মথার সুপ্রীমো পূর্ণ চন্দ্র জমাতিয়া কে মুখ্য নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত করেছেন। যখন শ্রীজমাতিয়াকে এই পদে দায়িত্ব দেন।তার আগে দলের সুপ্রিমো সাথে জগদীশ দের্ববমা সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতেন না বলে সংবাদ।
শ্রীজমাতিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া ছয়মাস পর বিভিন্ন কাজকর্ম সম্পর্কে দলের সুপ্রিমো অবহিত হন। তখন তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। ক্ষোভ ও প্রকাশ করেছেন দলের নীতি নির্ধারকদের কাছে।মথার সাথে বি জে পি সাপে নেউলে সম্পর্ক চলছে। এই সময়ে এ ডি সিতে বি জে পি বিরোধী দল। বিরোধী দল নেতা হংসকুমার ত্রিপুরা বি জে পি ত্যাগ করে তিপ্রা মথা দলে যোগ দিলেন।তখন বি জে পি সবর্দা উৎ পেতে থাকে ।কখন মথা সদস্য দের ভেঙ্গে বি জে পিতে নিয়ে আসবে
। সেই সময় অনিমেষ দেবর্বমা এ ডি সিতে মথা দলের সদস্য।ঊনাকে নির্বাহী সদস্য পদে নিয়োগ করার পর ও তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ক্ষোভ প্রশমিত করতে উপ মুখ নির্বাহী সদস্য পদে নিয়োগ করা হয়।এর মধ্যে বি জে পি একবার মথা সদস্যদের বেশ কয়েকবার ফাঁদে ফেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দলের সুপ্রিমো বিষয়গুলো জানতে পারতেন। সাথে সাথে তিনি বিষয়টি সমাধান করেছেন। এই অবস্থায় থেকে শ্রীজমাতিয়া কাজকর্ম বীতিশ্রদ্ধ হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেখা যায় শ্রীজমাতিয়াকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সাথে সাথে তিনি কয়েক জন নিয়ে বি জে পি তে যেতে পা বাড়িয়ে রেখেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে দলের সুপ্রিমো পিছু হটে উল্টো চাল খেলে বি জে পি কে ফেসাদে ফেলে দেন। তখন মথা বি জে পি কে সমর্থন দিয়ে বসেন রাজ্য সরকার কে। সর্মথন দিয়ে দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বি জে পি মথা কে ভেঙ্গে চুরমার করার পর থেকে সরে আসে। সাথে শ্রীজমাতিয়াকে সবধরনের কাজকর্ম সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকার পর ও দলের সুপ্রিমো চুপ ছিলেন। বিধানসভায় প্রার্থী করে চেয়েছিলেন শ্রীজমাতিয়াকে এ ডি সি থেকে সরিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি বিধায়ক নির্বাচনে পরাজিত হন।সুপ্রিমো শ্রীজমাতিয়াকে সি ই এম আর সরিয়ে দিতে পারলেন।শ্রীজমাতিয়া মক্ষিরানী প্রেমী এবং চূড়ান্ত দূর্নীতিবাজ বলে সর্বত্রই কান পাতলে শোনা যায়।এক মক্ষিরানী শ্রীজমাতিয়া ছত্রছায়ায় থেকে এ ডি সিতে কি করে যাচ্ছে তা মথা দলের সকলেই অবগত আছেন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলতে সাহস পায় নি।
এই সব বীষয়ে মথা দলের সুপ্রিমো অবগত থাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জগদীশ দের্ববমা হাতে এ ডি সি পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেয়ার জন্য বিভিন্ন নেতাদের সাথে আলোচনা করেছেন বলে দলীয় সূত্রে সংবাদ। মুখ নির্বাহী সদস্য নাম ঘোষণা না হওয়ায় এখন ও বিষয়টি নিয়ে চর্চা চলছে। এখন দেখার আসলে জগদীশ আসছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *