সি পি আই এমের দাদাগিরিতে বামফ্রন্ট আজ সাইনবোর্ড সর্বস্ব

সি পি আই এমের দাদাগিরিতে রাজ্যে বামফ্রন্ট আজ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে।সি পি আই এম রাজ্যে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় ছিল । সেই সময় বামফ্রন্টের অন্যান্য শরীক দলগুলোকে সি পি আই এম রাজ্য নেতৃত্ব দাবিয়ে রেখেছে। এখন ক্ষমতা থেকে সরে যাবার পর ও শরিক দল গুলো কে সি পি আই এম মর্যাদা দিতে রাজি নয়।
সি পি আই এম, সারা ভারত ফরোয়ার্ড ব্লক, সি পি আই এবং আর এস পি এই চার দল মিলে রাজ্যে বামফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৭৭ সালের আগে। কখনো কখনো বামফ্রন্টের সাথে সি পি আই এম এল এবং এস ইউ সি আই কে দেখা গেছে ফ্রন্টে যোগ দিতে।তবে রাজ্যে বামফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। কিন্তু ফ্রন্টের সব কাজে সি পি আই এম বাকি তিন দলকে নিয়ন্ত্রন করে আসছে।আজো করে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।
সি পি আই এম ঠিক করে দিয়ে থাকে বাকি দলগুলো সংগঠনের কাজকর্ম কি করবেন বা করবেন না।
ফরোয়ার্ড ব্লক, সি পি আই এবং আর এস পি নিজেদের মত করে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেনি।যখনেই তিনটি দল পৃথক পৃথকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে ময়দান মুখি হয়েছে।তখনেই সি পি আই এম তিনটি দলের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।সি পি আই এমের চোখ রাঙ্গানির ভয়ে তিনদলের নেতৃবৃন্দ সি পি আই এম নেতাদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়েছে।যার কারণে শরিক তিন দল ক্রমে কোনঠাসা হতে হতে এখন সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে পড়েছে।ফলে বামফ্রন্ট কথাটি অর্থ হয়েছে সাইনবোর্ড। যে কোন কাজে এখন চারদলের প্রতিনিধিদের একসাথে খোঁজে পাওয়া যায় না।

রাজ্যের ক্ষমতা থেকে ২০১৮ সালে সি পি আই এম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। তারপরও কিছু দিন বামফ্রন্ট রাজ্যে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। কোনো ধরনের সাংগঠনিক কাজ পযন্ত করতে পারে নি।২০২৩ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামফ্রন্ট পুনরায় বিধানসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই নির্বাচনে বামফ্রন্টের জোট গড়তে গিয়ে ও শরিক দল গুলোর সাথে একধরনের দাদাগিরি করেছে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। ফরোয়ার্ড ব্লক,সি পি আই এবং আর এস পি দীর্ঘদিন ধরে যেসব বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এই বার সি পি আই এম শরিক দল গুলো কে সেই সব আসন ছেড়ে দেয় নি। এছাড়া শরিক দল কাকে প্রার্থী দাঁড় করাবে। সেই ক্ষেত্রে ও হস্তক্ষেপ করেছে বলে সংবাদ। আরও শোনা যায় দীর্ঘদিন ধরে সি পি আই এম হয়ে সং গঠনের কাজ করে আসছে। নির্বাচনের আগে যেকোন শরিক দলের মধ্যে তাকে ঠেলে দিয়ে দেওয়া হয়। তখন সে ঐদলের হয়ে নির্বাচনে লড়াই করেন।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সি পি আই এম এককভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বামফ্রন্টের শরিকদলগুলোর কাউকে সাথে নিয়ে কোন ধরনের আন্দোলন করতে দেখা যায় না। সাম্প্রতিক কালে বিধানসভা উপনির্বাচনে বিষয়টি আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপনির্বাচনে কোথাও বামফ্রন্টের নির্বাচনে প্রচারে শরিক দলের কোনো নেতৃত্ব দেখা যায় নি।সি পি আই এম নিজেরা একা তাদের প্রার্থীর সর্মথনে প্রচার করেছে।
এছাড়া বিভিন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে ও এখন শরিক দল আর এস পি, সি পি আই এবং ফরোয়ার্ড ব্লকের কোনো প্রতিনিধি কে সাথে নিয়ে সি পি আই এম বসে না। এছাড়া বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান নারায়ন কর যখন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন। তখন ও শরিক দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে দেখা যায় নি। এই নিয়ে জনগণের মধ্যে গুঞ্জন চলছে।রাজ্যে কি বামফ্রন্ট সংগঠন শক্তি হারাতে বসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *